ভোট মিটতেই শুভেন্দুর বড় দাবি, রেজিনগরে পদ্ম আর নন্দীগ্রামে রেকর্ড মার্জিন!
বার্তা ডেস্কঃ
ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতেই রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম—উভয় বিধানসভা কেন্দ্রেই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দুর্দান্ত জয়ের দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তিনি জানান, উভয় আসনেই পদ্মফুটবে এবং নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের মার্জিন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।
মঙ্গলবার দুই কেন্দ্রে ভোটদানের হার ছুঁয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ। এই রেকর্ড পরিমাণ ভোটদানকে বর্তমান রাজ্যের পাঁচ মাসের সরকারের প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিশেষত সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত রেজিনগর আসনটি নিয়ে নিজের অংক মেলাতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত নির্বাচনে সেখানে বিজেপি প্রার্থী ৬৪ হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। তবে এবার দলীয় প্রার্থী শাখরভ সরকার ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এককভাবে জয়ী হবেন।
রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কের মেরুকরণ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন রাজ্যের প্রায় ২৪ লক্ষ মুসলিম নারী। এই মহিলারা এবং সংখ্যালঘু যুব সম্প্রদায় উন্নয়নে ভেদাভেদহীন রাজ্য সরকারের নীতিকে সমর্থন জানিয়ে বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন। তবে প্রবীণ সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট গেছে হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রার্থীর ঝুলিতে। একই সাথে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, উভয় কেন্দ্রেই সিপিএম তথা বামেদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, নিজের গড় নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের বিপুল জয় নিয়ে প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এর আগে নন্দীগ্রামে তিনি নিজে যে ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, এবার নতুন বিজেপি প্রার্থীর জয়ের মার্জিন তার চেয়ে অন্তত ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি হবে।
আগামী শুক্রবার (৯ তারিখ) প্রকাশ পাবে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ফলাফল। মুখ্যমন্ত্রীর ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে এই দুই আসনে জিতে রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি-র আসন সংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে ২০৯-এ পৌঁছায় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।