প্রশাসক হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ মোদীর, দিল্লিতে বিশেষ উদযাপন!
বার্তা ডেস্কঃ
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দেখতে দেখতে প্রশাসক হিসেবে তাঁর পথচলার ২৫ বছর (সিকি শতক) পূর্ণ হলো। গুজরাতে ১২ বছরেরও বেশি সময় সফল মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা পালনের পর ২০১৪ সালে তিনি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হন এবং দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। পরবর্তীকালে ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও জয়ী হয়ে টানা তিন দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনন্য নজির গড়েন তিনি।
প্রশাসনিক জীবনের এই ২৫ বছর পূর্তিতে বুধবার দিল্লির সরোজিনী নগরের শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো ও আরতি দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে দেশবাসীর কল্যাণ কামনার পাশাপাশি ‘নিষ্ঠা ও পূর্ণ একাগ্রতা’ নিয়ে দেশের সেবা করে যাওয়ার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এই বিশেষ সাফল্য স্মরণে রেখে দেশজুড়ে একাধিক সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে শাসকদল বিজেপি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অধীনে রক্তদান শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নানা জনসংযোগমূলক কাজ করা হয়েছে। বুধবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাইক ও সাইকেল র্যালি এবং মোদীর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নানা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়াম চত্বরে ‘সেবা জ্যোতি’ শীর্ষক মূল অনুষ্ঠানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বিশাল জমায়েত হয়। বিজেপির পাশাপাশি পবন কল্যাণ, নারা লোকেশ ও একনাথ শিন্ডের মতো এনডিএ শরিক নেতারাও মোদীর এই দীর্ঘ প্রশাসনিক যাত্রার প্রশংসা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোদীর ২৫ বছরের ধারাবাহিক নেতৃত্বকে অভিনন্দিত করে বিশেষ প্রস্তাব গৃহীত হয়। বৈঠকে তুলে ধরা হয়, কীভাবে গুজরাতে চালু হওয়া ‘স্বাগত’ কিংবা ‘জ্যোতিগ্রাম’-এর মতো সফল প্রকল্পগুলি পরবর্তীতে জাতীয় স্তরে বিস্তৃত হয়েছে। এছাড়া জনধন অ্যাকাউন্ট, গৃহনির্মাণ, কৃষকদের আর্থিক সাহায্য, জিএসটি, ডিজিটাল লেনদেন, মহাসড়ক ও রেল পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, চন্দ্রযান-৩, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতির খতিয়ানও এতে স্থান পেয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, ‘এক পদ এক পেনশন’ (OROP), বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক ও ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মতো পদক্ষেপের পাশাপাশি জি২০, ব্রিকস এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এ ভারতের শক্তিশালী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মোদীর এই ২৫ বছরের প্রশাসনিক সফরকে পাথেয় করেই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘উন্নত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রায় এগোতে চাইছে দল।