হায়দরাবাদে ৩০ মুসলিম ভোটারের নাম কাটার চেষ্টা, বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে FIR!
বার্তা ডেস্কঃ
হায়দরাবাদের মুশিরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩০ জন ভোটারের নাম বেআইনিভাবে বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বিজেপির এক বুথ লেভেল এজেন্টের (BLA) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি এস বালাচন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। মুশিরাবাদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) টি প্রবীণ কুমার রেড্ডির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর চিক্কাদপল্লি থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ২১৭ ও ৩১৮(২) ধারা (ভুল তথ্য প্রদান ও প্রতারণা) এবং ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় (ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা ঘোষণা) মামলা দায়ের হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও সরজমিনে তদন্ত এফআইআর অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২১০ নম্বর পোলিং স্টেশনে ডিজিটালভাবে প্রিন্ট করা ৩০টি ফর্ম-৭ নিয়ে হাজির হন বালাচন্দ্র। তিনি দাবি করেন, ওই ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাই তাঁদের নাম বাদ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ডিউটিতে থাকা বুথ লেভেল অফিসার (BLO) ও সুপারভাইজার এতগুলো ফর্ম নিতে অস্বীকার করলে বালাচন্দ্র ফর্মগুলো সেখানেই ফেলে রেখে চলে যান।
পরবর্তীকালে, গত ১ অক্টোবর নির্বাচন আধিকারিকরা সরজমিনে তদন্তে গিয়ে দেখেন যে ওই ৩০ জন ভোটারই নিজেদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করছেন। আশ্চর্যজনকভাবে, নাম বাদ দেওয়ার জন্য জমা দেওয়া ওই তালিকায় স্থানীয় কংগ্রেসের বুথ লেভেল এজেন্ট শফিউদ্দিন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কড়া বার্তা ও সার্বিক প্রেক্ষাপট বর্তমানে তেলঙ্গানায় বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার সংক্রান্ত বিতর্কে এটিই রাজ্যে প্রথম পুলিশি এফআইআর। মুশিরাবাদ ছাড়াও হায়দরাবাদের বাহাদুরপুরা এবং গোশামহল কেন্দ্র থেকেও একই কৌশলে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ার খবর মিলেছে।
গত ৫ অক্টোবর তেলঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সি সুদর্শন রেড্ডি স্পষ্ট নির্দেশ জারি করে জানান, ফর্ম ৬, ৬এ, ৭ বা ৮-এ মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ধরনের সার্বিক অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি জানিয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট গাফিলতি বা কারচুপি থাকলে তার যথাযথ তথ্যপ্রমাণ পেশ করে যেন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।