চিটফান্ডে খোয়ানো টাকা ফেরতে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, স্বস্তি আমানতকারীদের!

বার্তা ডেস্কঃ

চিটফান্ডে সর্বস্ব খোয়ানো আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নাম করে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের করের টাকা নষ্ট করা হচ্ছে—এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ল সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি। ১২ বছর কেটে গেলেও কেন আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর কাজ শেষ হলো না, তা নিয়ে নজিরবিহীন অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ।

খরচের পাহাড়, অথচ ফল শূন্য আদালতের হিসেব অনুযায়ী, উক্ত কমিটিতে বর্তমানে ২৪ জন কর্মী এবং ১৩ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর কর্মরত। কর্মীসংকটের অজুহাত উড়িয়ে দিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি টাকা হিসেবে গত ১২ বছরে কমিটির পেছনে খরচ হয়েছে ১২০ কোটি টাকারও বেশি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে আমানতকারীদের মাত্র ৯৬ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে! জনগণের করের টাকা এভাবে খরচ করে এত হতাশাজনক ফল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে আদালত।

৫৪ কোটির সম্পত্তি হাতবদল, তাও নিষ্ক্রিয় কমিটি শুনানিতে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, ডুয়ার্সে ‘ভিবজিওর’ (VIBGYOR) সংস্থার প্রায় ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তি কমিটির হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে তা বিক্রি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়া সত্ত্বেও কমিটি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, নজরদারির দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতবদল হয়ে গেল এবং কেনই বা কমিটি এতদিন নীরব ভূমিকা পালন করল?

ছোট আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় কড়া অবস্থান আদালত জানিয়েছে, বর্তমানে কমিটির হাতে ১০৩টি মূল সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু এদের অধীনে কতগুলি সাব-কো ম্পা নি রয়েছে (যেমন— একা রোজভ্যালিরই ছিল ৫৪টি কো ম্পা নি) এবং তাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত, তার সঠিক তথ্য অবিলম্বে বের করতে হবে।

একই সঙ্গে, হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শুধু বড় অংকের আমানতকারীদের দিকে নজর দিলে চলবে না। যাঁরা ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা কষ্টার্জিত উপার্জন জমা রেখেছিলেন, তাঁদের টাকা ফেরানোই আদালতের মূল অগ্রাধিকার। বড় আমানতকারীরা নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ করতে পারলেও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সেই সামর্থ্য নেই; তাই তাঁদের স্বার্থরক্ষা করা আদালতের নৈতিক দায়িত্ব।

পরবর্তী নির্দেশ ও অ্যাকশন প্ল্যান হাইকোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত আইনি ক্ষমতা কমিটির হাতে রয়েছে। সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অবিলম্বে সম্পত্তি বিক্রি ও আমানতকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে।

আগামী ১৯ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ওই দিন কমিটিকে আদালতে উপস্থিত হয়ে স্পষ্ট জানাতে হবে— আগামী দিনগুলিতে তাঁরা কীভাবে কাজ পরিচালনা করবেন এবং আমানতকারীদের সমস্ত পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জন্য কী কী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *