যাত্রী সেজে ক্যাবচালক খুন ও ছিনতাই, পুলিশের জালে ৩ দুষ্কৃতী!
বার্তা ডেস্কঃ
যাত্রী সেজে ক্যাব ভাড়া করা, নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে চালককে খুন এবং তারপর গাড়ি নিয়ে চম্পট দেওয়া— এমনই এক ভয়ঙ্কর ছিনতাই চক্রের পর্দাফাঁস করল চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ। ডানকুনির চাঞ্চল্যকর ক্যাবচালক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম ও সোদপুর এলাকা থেকে চক্রের তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ অক্টোবর। ডানকুনির ভাদুয়া এলাকায় পা বাঁধা অবস্থায় এক প্রৌঢ়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে জানা যায়, মৃতের নাম রামজি কইরি। বিরাটির বাসিন্দা রামজি পেশায় ক্যাব চালক ছিলেন। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে ডানকুনি থানা ও চন্দননগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে মধ্যমগ্রাম থেকে একজনকে আটক করে। পরে তাকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোদপুর থেকে আরও দু’জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম— শেখ আরিয়ান, শেখ মনিরুল এবং শেখ সাহাদাত।
শুক্রবার ধৃত তিনজনকে শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। চন্দননগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপান্তর সেনগুপ্ত জানান, দেহ উদ্ধারের পর থেকেই জোরকদমে তদন্ত শুরু হয় এবং দ্রুত অভিযুক্তদের নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়। এই আন্তঃজেলা চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং তারা আরও কতগুলি গাড়ি ছিনতাই করেছে, তা জানতে ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে রেখে জেরা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, চলতি মাসের ৭ তারিখ কলকাতার ট্যাংরা এলাকা থেকেও বিডন স্ট্রিটের বাসিন্দা তথা ক্যাব চালক ভগবান প্রসাদ গুপ্তার মৃতদেহ একই ঝুলন্ত/নৃশংস অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। ট্যাংরার সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনেও এই একই দুষ্কৃতী দল জড়িত রয়েছে কিনা, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।