অহংকার ভেঙে ব্যাকফুটে ট্রাম্প! ভারতের ওপর থেকে ১০০% শুল্ক হঠানোর আসল কারণ কী?

বার্তা ডেস্কঃ

রাশিয়ার তেলের আমদানিকারক দেশগুলির ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ১০০ শতাংশ শুল্কের খাড়া প্রত্যাহার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ ও জাতীয় প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে শুক্রবার এক বিশেষ এক্সিকিউটিভ অর্ডার জারি করে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এর অধীনে থাকা সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মকুবের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মূলত ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার আর্থিক রোজগার বন্ধ করতে এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশকে নিশানা বানাতেই এই কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। ১৮ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা না থামালে ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের মুখোমুখি হতে হতো ভারত ও চীনকে। এর জবাবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিল, দেশের সাশ্রয়ী জ্বালানির সুরক্ষার সাথে সমঝোতা করা হবে না এবং বাড়তি শুল্ক চাপানো হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গভীর টানাপোড়েন সৃষ্টি হবে।

তবে মূল চাপের কারণ আন্তর্জাতিক তেল বাজার ও আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে যখন পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া, তখন ভারতের ওপর শুল্ক বসালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ত। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক ক্ষোভের মুখে পড়ার ভয়েই শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং তেলের দাম কমানোর তাগিদে সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির অনুমতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। যদিও মার্কিন সিনেটর এবং ইউক্রেন সমর্থক ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, এতে ইউক্রেনকে অবহেলা করা হয়েছে এবং মস্কোর যুদ্ধের আর্থিক তহবিল পুনর্গঠনের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *