হাতে গোনা কয়েকজনের থাকে এমন শরীর, পুরুলিয়ায় নজির গড়ে বাঁচল নারীর প্রাণ!
বার্তা ডেস্কঃ
দেবেন মাহতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক বিরল ও জটিল অস্ত্রোপচারে নজির গড়লেন চিকিৎসকরা। বাঘমুন্ডির গোবিন্দপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী প্রমিলা মাঝি নামের এক নারী পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসায় ধরা পড়ে তাঁর শরীরের হার্ট, লিভার, স্টমাকসহ প্রায় সব অঙ্গই উল্টোদিকে অবস্থিত, যাকে ডাক্তারি ভাষায় ‘সাইটাস ইনভার্সাস টোটালিস’ বলা হয়। ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষের মধ্যে কেবল একজনের শরীরে এমন বিরল গঠন দেখা যায়। প্রমিলা দেবীর পিত্তথলিতে মারাত্মক সংক্রমণ ও পুঁজ জমার পাশাপাশি আটকে ছিল একটি বড় ২ সেন্টিমিটার পাথর। এছাড়া তাঁর অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার মতো শারীরিক সমস্যাও ছিল।
চিকিৎসক পবন মণ্ডল ও মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন টিম এবং অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের সমন্বয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সঠিক কৌশল এবং মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় তিন ঘণ্টার এই স্বল্প ক্ষত অস্ত্রোপচারে পিত্তথলি থেকে পাথর ও পুঁজ সফলভাবে বের করা হয়। কলকাতার মতো বড় শহরগুলির হাসপাতালেও এই ধরনের রোগীর অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার অত্যন্ত কম। কিন্তু পুরুলিয়ার মতো প্রান্তিক জেলার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে এমন জটিল অস্ত্রোপচার সফল হওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের দক্ষতায় রোগী প্রমিলা দেবীর পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত।