বালিঘাট দখল নিয়ে রণক্ষেত্র বর্ধমান, মাফিয়া দমনে কড়া প্রশাসন!
বার্তা ডেস্কঃ
পূর্ব বর্ধমান জেলায় দামোদর ও অজয় নদ থেকে বালি তোলার ক্ষেত্রে প্রশাসন বৈধ ঘাটগুলির অনুমতি দিলেও বিগত বছরগুলির অবৈধ কারবার নিয়ে বাসিন্দাদের মনে সংশয় কাটছে না। অতীতে জেলায় বৈধ ঘাটের তুলনায় অবৈধ ঘাটের সংখ্যা বেশি থাকায় বালি মাফিয়ারা একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল। রাজ্য সরকার সমস্ত অবৈধ ঘাট বন্ধ করে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়ার পর জেলা প্রশাসন বিশেষ টিম গঠন করে নজরদারি শুরু করেছে। গলসি, জামালপুর, মঙ্গলকোট, খণ্ডঘোষ এবং রায়না এলাকায় অতীতে অবৈধ বালিঘাটের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি ছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বাইরের জেলার চালান ও নকল চালান তৈরি করে বালি বিক্রির এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ অভিযানও চালিয়েছে।
মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র দাবি করেছেন যে অতীতে তৃণমূলের ছত্রচ্ছায়ায় বালি মাফিয়ারা রাজত্ব চালালেও এখন অনেকে রাজনৈতিক দল বদল করে অবৈধ কারবার চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু দলের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত মদতের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে বালিঘাটের দখল নিয়ে বিরোধী দলের লোকেরাই সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে নিয়ম ভেঙে বালি তোলা বা চালান ছাড়া একটিও গাড়ি ঘাট থেকে বের হতে দেওয়া হবে না এবং অতিরিক্ত বালি বহনের ক্ষেত্রে কঠোর জরিমানা আদায় করা হবে।