রাজপথে বিজেপি, রাহুল ও কংগ্রেসকে নিশানা করে গণতন্ত্র নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি!

বার্তা ডেস্কঃ

 

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতা দখলের পর জাতীয় ইস্যুতে এবার সরাসরি রাজপথে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের জাতীয় সভাপতি, মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য ইউনিটের প্রধানের নেতৃত্বে কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া মিছিল ধর্মতলায় এসে শেষ হয়। সেখানে জনসভার মঞ্চ থেকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

অভিযোগের তীর: অরাজকতা ও সাংবিধানিক সংস্থাগুলিতে আঘাত

বিজেপি জাতীয় সভাপতির অভিযোগ, কংগ্রেস দেশ জুড়ে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং দেশের সাংবিধানিক সংস্থাগুলির উপর আঘাত হানছে। তিনি বলেন, “জনতা ওদের (কংগ্রেসকে) প্রত্যাখ্যান করেছে। জনতার বিষয় নিয়ে লড়লে, প্রত্যাখ্যাত হত না। জনতা প্রত্যাখ্যান করত না।” তিনি আরও যোগ করেন, “গত পঞ্চাশ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের জনতা ওদের নাম নিচ্ছে না। এই অবস্থা চললে, গোটা দেশেও ওদের একই হাল হবে।”

‘টুলকিট’ তত্ত্ব: বিদেশি শক্তির প্রভাবের অভিযোগ

বিজেপি জাতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীকে পরামর্শ দেন, নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার বদলে তিনি বিদেশি শক্তির ‘টুলকিট’ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ‘টুলকিট’-এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, “যারা বাংলাদেশকে অস্থির করেছিল, যারা নেপালকে অস্থির করেছিল, এঁদের সহানুভূতি তাদের প্রতি। এই রকম সব শক্তি, যারা অসামাজিক তত্ত্বকে উৎসাহ দেয়, যারা পুরোপুরি নেতিবাচক কাজে এগয়, তাদের প্রতি রাহুল গাঁধী আর কংগ্রেসের সহানুভূতি থাকে।”

বিরোধীদের হুঁশিয়ারি: ভারতের গণতন্ত্র শক্তিশালী

তিনি বিরোধীদের সতর্ক করে বলেন, “আপনারা যদি ভাবেন, ভারতকে অস্থির করবেন, যদি ভাবেন ইউরোপকে যারা অস্থির করছে, বাংলাদেশকে বা নেপালকে যারা অস্থির করছে, তাদের টুলকিট হয়ে আপনারা কাজ করবেন, তা হলে জেনে নিন, ভারতের গণতন্ত্র অনেক শক্তিশালী। একে ধাক্কা দেওয়ার শক্তি আপনাদের নেই।”

ব্যক্তিগত আক্রমণ: পূর্বপুরুষদের শিক্ষা এবং দূরদৃষ্টির অভাব

রাহুল গান্ধীকে সরাসরি কটাক্ষ করে বিজেপির জাতীয় সভাপতি বলেন, “আমি স্পষ্ট বলছি, আপনাদের পূর্বপুরুষেরা যত বার সে চেষ্টা করেছেন, তত বার দেশের জনতা আপনাদের শিক্ষা দিয়েছে। রাহুল গাঁধী, আপনার না দূরদৃষ্টি রয়েছে, না উন্নয়নের ভাবনা রয়েছে। রাজনীতিতে যে বিবেক, যে শুচিতা থাকা জরুরি, আপনার কথায় তা-ও দেখা যায় না।”

শুভেন্দু অধিকারীর বিতর্কিত মন্তব্য

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সভায় উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আরশোলা-ছাড়পোকা-দিমাগি নকশাল দেখলেই ঝাঁটা পেটা করুন।”

উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পরে বিহারের পূর্ব কর্মসূচি সেরে কলকাতায় পৌঁছান বিজেপির জাতীয় সভাপতি। তবে দুপুর থেকেই মধ্য কলকাতায় বিজেপি কর্মীদের ভিড় জমতে শুরু করেছিল। এই সভা এবং এর সঙ্গে জড়িত মন্তব্যগুলি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *