শীতকালেও ফ্রিজের এই ভুলে পকেট খালি হচ্ছে আপনার!
বার্তা ডেস্কঃ
শীতকালে ফ্রিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কার্যকর উপায়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গরমের সময় ফ্রিজের কুলিং ক্ষমতা বাড়িয়ে রাখলেও, শীতকালে একই তাপমাত্রা বজায় রাখা বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্রিজের সেটিং পরিবর্তন করলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল কমবে, তেমনি যন্ত্রটির কার্যকারিতাও বজায় থাকবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শীতকালে ফ্রিজের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) মধ্যে রাখা আদর্শ। যাদের ফ্রিজে ১ থেকে ৭ পর্যন্ত নম্বরযুক্ত রেগুলেটর বা ডায়াল রয়েছে, তাদের শীতকালে সেটি ১ বা ২ নম্বরে সেট করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
অনেকের ধারণা, শীতে বাইরে ঠান্ডা থাকায় ফ্রিজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ বিল বাঁচানো সম্ভব। তবে প্রযুক্তিবিদরা একে ভুল ও ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ফ্রিজ বন্ধ রাখলে ভেতরে আর্দ্রতা জমে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক তৈরি হতে পারে, যা কম্প্রেসারের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। বরং রেগুলেটর কমিয়ে রাখলে ফ্রিজ ভেতরকে নির্দিষ্ট শীতল মাত্রায় পৌঁছানোর পর দ্রুত ‘অটো-কাট অফ’ মোডে চলে যায়, যা বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়।
শীতকালে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:
- উপযুক্ত স্থান নির্বাচন: ফ্রিজটিকে দেয়াল বা অন্যান্য আসবাবপত্র থেকে অন্তত ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি দূরে রাখতে হবে, যাতে পেছনের কয়েল থেকে নির্গত তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।
- দরজা ব্যবহারের সতর্কতা: অহেতুক ফ্রিজের দরজা খোলা রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে ভেতরের শীতল বাতাস বেরিয়ে যায় এবং কম্প্রেসারকে পুনরায় কাজ করতে হয়।
- খাবার রাখার নিয়ম: গরম খাবার বা দুধ সরাসরি ফ্রিজে না রেখে ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর রাখা উচিত।
- দরজার সিলিং পরীক্ষা: ফ্রিজের দরজার রবারের সিলিং সঠিকভাবে আটকানো আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে শীতের মৌসুমে খাবার যেমন সতেজ থাকবে, তেমনি মাসের শেষে সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ বিলের খরচ।