আন্দোলনে গরহাজির, যুব কংগ্রেসে এক রাতেই কোপ পড়ল ২৬ জনের!

বার্তা ডেস্কঃ

যুব কংগ্রেসে বড় রদবদল: ছাঁটাই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রোহন মিত্র

পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জেলার যুব কংগ্রেস সভাপতিসহ মোট ২৬ জন শীর্ষ নেতাকে হঠাৎ সাসপেন্ড করার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর হাইকম্যান্ডের জারি করা এই নির্দেশে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার যুব সভাপতিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজ্য যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরাও এই ছাঁটাইয়ের কোপে পড়েছেন। সংগঠনের শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এমন সিদ্ধান্ত দলের ভেতরেই বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

যাতায়াত খরচ ও তৃণমূল থেকে আগতদের নিয়ে প্রশ্ন

দলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি সরব হয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র। তাঁর দাবি, দিল্লির কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে না পারার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে এই নেতাদের, কিন্তু পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা করা হয়নি। রোহন মিত্রের কথায়, উৎসবের মরশুমে ট্রেন ও বিমানের আকাশছোঁয়া খরচের কারণে অনেক কর্মীর পক্ষে দিল্লি যাওয়া আসাম্ভব ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ পরিবারের কর্মীদের ওপর এভাবে চাপ সৃষ্টি করলে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে না। পাশাপাশি, দলে নবাগতদের তুলনায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের ওপর এই কঠোর আচরণের প্রভাব নিয়ে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এই ঘটনার ফলে তৃণমূল থেকে আসা কর্মীদের সাথে পুরনো কর্মীদের দ্বন্দ্ব নতুন রূপ নিয়েছে। প্রদেশ নেতৃত্বের মতে, যারা কঠিন সময়ে রাহুল গান্ধীর আদর্শ ধরে রেখে দলের জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের প্রতি এই অবহেলা তরুণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই ‘শৃঙ্খলার পাঠ’ দলীয় সংহতিকে আরও জটিল করে তুলবে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এখন দেখার বিষয়, ক্রমবর্ধমান এই ক্ষোভ প্রশমনে হাইকম্যান্ড তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে কি না।

এক ঝলকে

  • পশ্চিমবঙ্গের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জেলার যুব সভাপতিসহ ২৬ জন নেতাকে সাসপেন্ড করেছে যুব কংগ্রেস।
  • দিল্লির কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকার কারণেই মূলত এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
  • আর্থিক অসংগতি ও পুরনো কর্মীদের প্রতি অবিচারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র।
  • দলীয় কর্মীদের মনোবল ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে অস্বস্তি বাড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *