শুভমন গিলের কপালে রহস্যময় এই ডিভাইসটি আসলে কী, কেন পরছেন তিনি?

বার্তা ডেস্কঃ

 

ক্রীড়ামহলে নতুন কৌতূহল: খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে ‘টেম্পল’ ডিভাইসের ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আধুনিক খেলাধুলায় প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাধারণ ফিটনেস ব্যান্ড বা স্মার্টওয়াচের বাইরে এবার ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের কপালে দেখা যাচ্ছে ‘টেম্পল’ (Temple) নামক এক বিশেষ ওয়্যারেবল ডিভাইস। মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ ও খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ বিশ্লেষণের সক্ষমতার কারণে এই গ্যাজেটটি নিয়ে ক্রীড়ামহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

কী এই টেম্পল ডিভাইস?
জোম্যাটোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েলের নেতৃত্বাধীন একটি দল এই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে। ডিভাইসটি কানের ঠিক উপরের দিকে কপালের পাশে লাগানো হয়। এতে থাকা অপটিক্যাল সেন্সর এবং ‘ব্রেইনফ্লো’ (BrainFlow) প্রযুক্তির মাধ্যমে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ ও অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।

কী কী কাজ করে এই গ্যাজেট?
১. মানসিক চাপ বিশ্লেষণ: খেলোয়াড়দের ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ‘কগনিটিভ লোড’ বা মানসিক চাপ কতটা, তা এই ডিভাইস বিশ্লেষণ করতে পারে। অনুশীলন ও ম্যাচ চলাকালীন শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়ার সূক্ষ্ম তথ্য পেতে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।
২. এনট্রপি স্কোর: ডিভাইসের ‘এনট্রপি স্কোর’ একজন খেলোয়াড়ের শরীরের ওপর তৈরি হওয়া শারীরবৃত্তীয় চাপের ধরন তুলে ধরে। ব্যায়াম, ঘুম বা মানসিক চাপের কারণে এই স্কোরে পরিবর্তন আসে, যা পারফরম্যান্স মূল্যায়নে সহায়তা করে।
৩. শারীরিক নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ: মস্তিষ্কের সংকেত ছাড়াও এই ডিভাইস শরীরের ভঙ্গি (Posture), হাঁটাচলা কিংবা চিবানোর মতো শারীরিক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে সক্ষম।

ক্রীড়াবিদদের মধ্যে জনপ্রিয়তা
এর আগে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুকে এই ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। আগস্ট মাসে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের সময় তাঁর কপালে এই যন্ত্রটি নজর কেড়েছিল। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরের সময় শুভমন গিলকেও এই ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

দাম ও সহজলভ্যতা
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ডিভাইসের প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে। উদ্ভাবকদের তথ্য অনুযায়ী, টেম্পল ডিভাইসের বাজারমূল্য ৮৫ হাজার টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিখুঁতভাবে পরিমাপের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি আগামী দিনে ক্রীড়া প্রশিক্ষণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ডিভাইসটি কেবল পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের জন্য তৈরি, কোনো রোগ নির্ণয়ের জন্য নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *