৭০০ পিনাকা রকেট ও ড্রোন, বিশ্বজয়ের পথে অপ্রতিরোধ্য ভারত!
বার্তা ডেস্কঃ
প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন মাইলফলক: ভারতীয় সেনার হাতে ‘নাগাস্ত্র-১’, বিদেশে রপ্তানি ‘পিনাকা’
ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে নাগপুরের ‘সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড’ এক অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্বোধনের মাত্র এক বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে ৪৫০টি ‘নাগাস্ত্র-১’ ড্রোন। এটি ভারতের তৈরি প্রথম দেশীয় ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ বা লয়টারিং মিউনিশন, যা শত্রুপক্ষের ভারী ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করতে সক্ষম। ৫০ কিলোমিটার পাল্লার এই ড্রোন একইসঙ্গে নজরদারি ও কামিকাজে স্টাইলে আঘাত হানতে পারদর্শী, যা সীমান্তে ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিক বাজারে আধিপত্য
নাগাস্ত্র-১-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ‘নাগাস্ত্র-২’ তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যেখানে জিপিএস জ্যামিং মোকাবিলায় অত্যাধুনিক ইসিসিএম (ECCM) প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাণিজ্যেও ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ডিআরডিও-র সহায়তায় তৈরি গাইডেড ‘পিনাকা’ রকেট সিস্টেমের ৭০০টি ইউনিট আর্মেনিয়ার কাছে রপ্তানি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১২০ কিলোমিটার পাল্লার এই রকেট লঞ্চার আন্তর্জাতিক বাজারে সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে।
এই অর্জনের মূল কারণ হলো দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ১০,২০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই চুক্তিগুলো কেবল ভারতের সামরিক শক্তির আধুনিকায়নই নিশ্চিত করছে না, বরং বিশ্বের দরবারে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের নির্ভরযোগ্যতাকেও প্রতিষ্ঠিত করছে। এটি কেবল সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই নয়, বরং ভবিষ্যতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- নাগাস্ত্র-১: এটি ভারতের প্রথম দেশীয় লয়টারিং মিউনিশন, যা ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারে।
- পিনাকা রপ্তানি: আর্মেনিয়ার কাছে ৭০০টি গাইডেড পিনাকা রকেট বিক্রির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে ভারত শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
- প্রযুক্তিগত অগ্রগতি: ইসিসিএম প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘নাগাস্ত্র-২’ তৈরির কাজ চলমান, যা দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশে শত্রুর জিপিএস জ্যামিং মোকাবিলা করবে।
- প্রভাব: প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল চুক্তিগুলো ভারতের আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ভারতীয় অস্ত্রের চাহিদাও বাড়িয়ে তুলেছে।