বিয়েতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষিকাকে খুন, ট্রাঙ্কে লাশ নিয়ে সারাদিন ঘুরল স্কুল ম্যানেজার!
বার্তা ডেস্কঃ
দেওরিয়ায় শিক্ষিকা হত্যা: বিয়ের চাপ দেওয়ায় প্রেমিকের হাতে খুন
উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ায় এক তরুণী শিক্ষিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত ২৬ বছর বয়সী রানী বিশ্বকর্মা পার্শ্ববর্তী গোরখপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং দেওরিয়ার রুদ্রপুর থানা এলাকার একটি স্কুলে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই স্কুলের ম্যানেজার বিজয় নিষাদের সঙ্গে রানীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিয়ের জন্য রানী ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করলে অভিযুক্তের সঙ্গে তার তীব্র বিরোধের সূত্রপাত হয়, যা শেষপর্যন্ত এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রূপ নেয়।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও নৃশংসতা
তদন্তে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর স্কুলে পৌঁছানোর পর বিয়ের দাবি নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিজয় রানীকে জোরপূর্বক তার ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নিয়ে নির্জন এলাকায় যায় এবং সেখানে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নৃশংসতার চূড়ান্ত পর্যায়ে, অভিযুক্ত খুনের পর নিহতের মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে রেখেই সারাদিন শহরজুড়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়ায়। গভীর রাতে মরদেহটি স্কুলের অদূরে ঝোপঝাড়ের মধ্যে ফেলে সে আত্মগোপন করার চেষ্টা করে।
পুলিশের তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও কল ডিটেলসের সূত্র ধরে অভিযুক্ত বিজয় নিষাদকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় রুদ্রপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। একজন শিক্ষিকার এমন মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
এক ঝলকে
- দেওরিয়ায় স্কুল ম্যানেজার বিজয় নিষাদের হাতে শিক্ষিকা রানী বিশ্বকর্মা খুন হয়েছেন।
- বিয়ের চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
- ঘটনার পর মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রেখে অভিযুক্ত স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে।
- সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে।