ডায়মন্ড হারবারের পার্টি অফিসে টাকার পাহাড়, স্তব্ধ এলাকা!
বার্তা ডেস্কঃ
ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের প্রাক্তন পার্টি অফিস থেকে ১ কোটিরও বেশি টাকা উদ্ধার, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
নিজস্ব প্রতিবেদন, ডায়মন্ড হারবার: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের সরিষা আশ্রম মোড়ে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রাক্তন পার্টি অফিস থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিষ্ণুপুরের কালিতলা এলাকায় জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ সুমিত রায় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে সরিষা আশ্রম মোড়ের ওই পার্টি অফিসে অভিযান চালায় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ। তল্লাশিতেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ওই নগদ অর্থ। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জেলা পুলিশ সুপারের (জোনাল) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে সরিষা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে রাজ্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটি ‘ভাইপো’র এক ঘণ্টার রোজগার।” তিনি আরও দাবি করেন, এই টাকা বিদেশে পাচার ও বেআইনি কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। রাজ্যের রাজস্ব লুটের মাধ্যমেই এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে একটি ‘সাজানো ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছে। তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ অভিযোগ করেন, “বিজেপির নির্দেশে পুলিশ কাজ করছে। এটি একটি যৌথ পরিকল্পনা।” সুমিত রায়কে এনকাউন্টার করা এবং মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো বিস্ফোরক অভিযোগও তুলেছেন তিনি। অর্ক নাগের দাবি, অভিযুক্ত পার্টি অফিসটি গত ২১ মে ভাড়া চুক্তি শেষ হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং বাড়ির মালিকের কাছে চাবিও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর দুষ্কৃতীরা সেখানে ভাঙচুর চালায়। তৃণমূলের দাবি, ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং পরিকল্পিতভাবে এই টাকা সেখানে রেখে দলকে অপদস্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পুলিশ সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঠিক কবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ওই পরিত্যক্ত পার্টি অফিসে এত বিপুল পরিমাণ টাকা মজুত করা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পালাবদলের পর থেকেই ওই অফিসটি দীর্ঘসময় ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।