বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে প্রথম ৫ মিনিটই বাঁচাবে অমূল্য জীবন!

বার্তা ডেস্কঃ

 

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বাঁচাতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ করণীয় ও সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনার পরবর্তী মুহূর্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে পরিচিত। এই সময়ে সঠিক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ রোগীর প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সচেতনতার অভাবে অনেক সময় ভুল পদক্ষেপ নেওয়ায় রোগীর বিপদ আরও বেড়ে যায়। জীবন রক্ষায় জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা:
কোনো ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে প্রথমেই মূল বিদ্যুৎ সংযোগ (মেইন সুইচ বা সার্কিট ব্রেকার) বন্ধ করতে হবে। যদি মেইন সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তবে কোনো অবস্থাতেই খালি বা ভেজা হাতে রোগীকে স্পর্শ করা যাবে না। সেক্ষেত্রে শুকনো কাঠের লাঠি, প্লাস্টিকের পাইপ বা শুকনো চাদরের মতো বিদ্যুৎ অপরিবাহী বস্তু ব্যবহার করে রোগীর শরীর থেকে বৈদ্যুতিক উৎসকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। নিজের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তাড়াহুড়োর সময় সতর্ক থাকা আবশ্যক।

২. প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর (CPR):
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও নাড়ির গতি পরীক্ষা করতে হবে। রোগী যদি অচৈতন্য হয়ে পড়েন এবং শ্বাস নিতে না পারেন, তবে অবিলম্বে সিপিআর (CPR) শুরু করতে হবে। অভিজ্ঞ কেউ উপস্থিত না থাকলে দ্রুত বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় রোগীর চারপাশে ভিড় করা যাবে না, বরং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বর্জনীয় বিষয় ও সতর্কতা:
আতঙ্কিত হয়ে অজ্ঞান ব্যক্তিকে জোর করে জল বা কোনো পানীয় খাওয়ানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে তরল শ্বাসনালীতে ঢুকে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া রোগীর শরীরে কোনো টাই বা আঁটসাঁট পোশাক থাকলে তা দ্রুত আলগা করে দিতে হবে।

৪. হাসপাতালে স্থানান্তর:
অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও রোগীকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দেওয়া যাবে না। বরং দ্রুত স্থানীয় কোনো হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

চিকিৎসকদের মতে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর রোগীর অবস্থা বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক মনে হলেও অভ্যন্তরীণ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই একটি জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *