হরমুজ়ে বড় চমক, রেকর্ড গ্যাস আমদানিতে বিশ্ব কাঁপাল ভারত!
বার্তা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় বিপত্তির পর পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিনব পথ বেছে নিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলি। হরমুজ় প্রণালীর মতো বিপজ্জনক এলাকা অতিক্রম করতে সরবরাহকারীরা এখন ‘শিপ-টু-শিপ’ বা মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের কৌশল প্রয়োগ করছে। এই প্রক্রিয়ায় নজরদারি এড়িয়ে নিরাপদ জলসীমায় গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিগত দুই মাসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত ও কাতার থেকে ভারতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা ফের বাড়ায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আমেরিকা থেকে ভারতের এলপিজি আমদানি প্রায় ৩৬ শতাংশ কমেছে।
ভারতের মোট রান্নার গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার সিংহভাগ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যুদ্ধের শুরুর দিকে এই জোগান ব্যাহত হওয়ায় ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের জোগান সচল রাখতে বাণিজ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করতে হয়েছিল। তবে মাঝসমুদ্রে সরবরাহকারীদের ঝুঁকি নিয়ে জ্বালানি পাঠানোর ফলে দেশে এলপিজি জোগানের ভারসাম্য ধীরে ধীরে ফিরছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় শোধনাগারগুলির চাপ কমলেও এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে হরমুজ় প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। আপাতত এই কৌশলের ওপর ভর করেই শীতের মুখে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত।