ব্যাঙ্কে নয়, ফ্রিজেই সাইবার হানা! এক রাতেই নষ্ট টন টন খাবার
ইউরোপে সাইবার হামলার আতঙ্ক: ঘরে-অফিসের গ্যাজেট নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ সেফটি কমিশনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপের চারটি দেশে সম্প্রতি একাধিক সুপারমার্কেট চেইনের সেন্ট্রাল কুলিং সিস্টেমে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় সেফটি কমিশন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাদের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে (সেফটি অডিট) জরুরি পরামর্শ দিয়েছে।
গত শুক্রবারের এই সাইবার হামলায় ৬৫টিরও বেশি সুপারমার্কেটের ফ্রিজিং সিস্টেম বিকল হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে হ্যাকাররা কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি এবং পরবর্তীতে কোম্পানির ডেটা ফিরিয়ে দিয়েছে। ইউরোপীয় থ্রেট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের তদন্তে এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের ‘মহড়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই হামলার পেছনে তিনটি গভীর ও উদ্বেগজনক বিষয় রয়েছে:
১. সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য: বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সেন্ট্রাল কুলিং সিস্টেমে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো নাশকতার পূর্বাভাস বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
২. প্রতিরক্ষায় ঝুঁকি: কুলিং সিস্টেম অচল করে দিলে যে কোনো প্রতিষ্ঠান, আবাসন এমনকি সামরিক ঘাঁটির স্বাভাবিক কার্যক্রমও সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া সম্ভব। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
৩. কোড-নির্ভর ঝুঁকির বিস্তার: পাওয়ার গ্রিডের মতোই বড় কোম্পানির কুলিং গ্রিডগুলো সফটওয়্যার কোড-নির্ভর। হ্যাকাররা এই কোড ভেঙে সিস্টেম বিকল করতে সক্ষম হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।
লেবাননে পেজার বিস্ফোরণ কিংবা ইউক্রেনে পাইপের মাধ্যমে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগে গোয়েন্দা কর্তার মৃত্যুর ঘটনার মতো প্রযুক্তিগত হামলার নজিরগুলো নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্ট হোম গ্যাজেট থেকে শুরু করে এসি বা শাওয়ারের মতো সাধারণ যন্ত্রগুলোও এখন আর সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নিজেদের ব্যবহারের যন্ত্রপাতির নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই বা ‘সেফটি অডিট’ করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে সাধারণ স্মার্ট ডিভাইসগুলোকেও এখন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন।