ইউরোপের আকাশে ভয়াবহ বোমাতঙ্ক, প্রাণ বাঁচাতে জরুরি অবতরণ ১৬ বিমানের!
বার্তা ডেস্কঃ
ইউরোপজুড়ে বিমানে ধারাবাহিক বোমা আতঙ্ক: নেপথ্যে ‘হাইব্রিড অপারেশন’-এর আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপের একাধিক দেশে বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার—পরপর দুদিন ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের একাধিক বিমানে বোমার হুমকি আসায় বিমানবন্দরগুলিতে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এক ধরনের ‘হাইব্রিড অপারেশন’ বা পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত।
প্রভাবিত বিমান ও রুটসমূহ
বৃহস্পতিবারের ঘটনাপ্রবাহে পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, বুলগেরিয়া, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড এবং ইতালিগামী বিভিন্ন ফ্লাইটে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
- LOT এয়ারলাইন্স (পোল্যান্ড): ওয়ারশ থেকে ব্রাসেলসগামী একটি বিমান নিরাপদে অবতরণ করলেও, প্যারিসগামী অপর একটি বিমান রানওয়ে থেকে জরুরি ভিত্তিতে থামিয়ে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
- চেক রিপাবলিক: প্রাগগামী চারটি বিমানে বোমার হুমকি পাওয়া যায়। প্রতিটি বিমানে তল্লাশি চালানো হলেও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
- বুলগেরিয়া: সোফিয়া ও প্লভডিভ বিমানবন্দরে তিনটি বিমানে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
- Aer Lingus (আয়ারল্যান্ড): ডাবলিন থেকে রোমগামী ফ্লাইট ‘ইআই৪০২’ প্যারিসের কাছে ইভ্রেক্স বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
- ফিনএয়ার: হেলসিঙ্কি থেকে রোমগামী একটি বিমানের সুরক্ষায় ইতালীয় বিমান বাহিনী ফাইটার জেট মোতায়েন করে। এছাড়া ভিয়েনাগামী অপর একটি বিমানেও হুমকি আসে।
- উইজ এয়ার: মিলান থেকে ওয়ারশগামী একটি ফ্লাইট বোমা আতঙ্কে ভিয়েনায় জরুরি অবতরণ করে।
সাইবার হামলা ও নাশকতার যোগসূত্র
চলতি সপ্তাহেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটগুলোর রেফ্রিজারেশন সিস্টেমে সাইবার হামলা এবং বিমানে ধারাবাহিক বোমা আতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। ‘সাইভিয়েশন’ (Cyviation)-এর প্রধান নির্বাহী এলিরান আলমোগের মতে, এই ঘটনাগুলো কাকতালীয় নয়। তাঁর অভিমত, এর পেছনে থাকা অদৃশ্য চক্রটি সরাসরি কোনো বড় হামলার চেয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতির সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করছে।
তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি অংশ এই ঘটনাগুলোকে ‘লো-কস্ট স্যাবোটাজ স্ট্র্যাটেজি’ বা স্বল্প খরচে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও কিছু মহলে রাশিয়া বা ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তবে উভয় দেশই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা গোষ্ঠীকে এই নাশকতামূলক পরিকল্পনার পেছনে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। আপাতত ইউরোপের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ও নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি বিমানবন্দরকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।