সোনার দাম আকাশছোঁয়া, উৎসবের মরসুমে কি তবে মুখ ফিরিয়েছে ক্রেতারা?
বার্তা ডেস্কঃ
ছয় বছরে সর্বনিম্ন সোনা কেনাবেচার আশঙ্কা, সতর্কবার্তা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের
নিজস্ব প্রতিবেদন: গত ছয় বছরের মধ্যে ভারতে সোনার চাহিদা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ‘ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল’ (ডব্লিউজিসি)। মঙ্গলবার প্রকাশিত ডব্লিউজিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সোনার বিক্রির সূচক নিম্নমুখী। বছরের শেষে মোট চাহিদা ৬৫০ টনে নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যা ২০২০ সালের কোভিড অতিমারীর পরবর্তী সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ডব্লিউজিসির চিফ এক্সিকিউটিভ (ভারত) সচিন জৈন জানান, চলতি অর্থবর্ষের সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সোনার চাহিদা ২৯ শতাংশ কমে ১৬২.৫ টনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অলঙ্কার ক্রয়ের হার ২০ শতাংশ এবং বিনিয়োগের হার ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চাহিদা হ্রাসের নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। গত ১৩ মে কেন্দ্র সরকার সোনার আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। এতে বিদেশ থেকে সোনা আনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি, ভারতের সোনার চাহিদার একটি বড় অংশ আসে গ্রামীণ এলাকা থেকে। এ বছর গ্রামীণ চাহিদাতেও ভাটা পড়েছে, যা সামগ্রিক বিক্রির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভারতের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ৬,৩৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫,৮৫০ টাকা বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের মধ্যে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ ভারত। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় প্রয়োজনের প্রায় ৯০ শতাংশ সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে সামনেই ধনতেরাস এবং বিয়ের মরসুম থাকায় ব্যবসায়ীরা বিক্রিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন।