তারাপীঠ কি সত্যিই ৫১ সতীপীঠের একটি? পুরাণ ও শাস্ত্রের গোপন সত্য জানলে চমকে উঠবেন!

বার্তা ডেস্কঃ

 

তারাপীঠ: শক্তিপীঠ নয়, তন্ত্রসাধনার এক অনন্য ‘মহাসিদ্ধপীঠ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বীরভূম: ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকমুখে প্রচলিত ধারণায় তারাপীঠকে দেবী সতীর অন্যতম শক্তিপীঠ হিসেবে গণ্য করা হলেও, শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন কথা বলছে। তান্ত্রিক শাস্ত্র ও পুরাণ অনুসারে, তারাপীঠ কোনো শক্তিপীঠ নয়, বরং এটি একটি ‘মহাসিদ্ধপীঠ’।

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দক্ষযজ্ঞের পর সতীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে পতিত হওয়ার ফলে ৫১টি শক্তিপীঠের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তারাপীঠের ক্ষেত্রে সতীর কোনো দেহাবশেষ পতনের শাস্ত্রীয় প্রমাণ পাওয়া যায় না। অনেকে এখানে দেবীর ‘তারা’ বা চোখের মণি পড়ার কথা বললেও, তন্ত্রশাস্ত্রে এর কোনো শক্ত ভিত্তি নেই।

শাস্ত্রীয় তথ্য অনুযায়ী, তারাপীঠের প্রকৃত মাহাত্ম্য নিহিত রয়েছে এর সুদীর্ঘ সাধনার ইতিহাসে। এটি মূলত সপ্তর্ষি বশিষ্ঠ মুনির প্রধান সাধনাপীঠ। জনশ্রুতি আছে, বশিষ্ঠ মুনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে তপস্যা করেও দেবী তারার দর্শন লাভে ব্যর্থ হয়ে তিব্বতে যান। সেখানে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের কাছে তান্ত্রিক ‘পঞ্চ-মকার’ সাধনার তত্ত্ব আয়ত্ত করে তিনি তারাপীঠের মহাশ্মশানে শ্বেত শিমুল গাছের নিচে পঞ্চমুণ্ডির আসনে কঠোর বামাচারী সাধনা শুরু করেন। তাঁর এই সাধনাতেই দেবী তারা তাঁকে প্রত্যক্ষ দর্শন দিয়েছিলেন।

পরবর্তীকালে একই স্থানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন মহান সাধক বামাক্ষ্যাপা। তিনি দেবী তারাকে নিজের গর্ভধারিণী মা হিসেবে পূজা করতেন। পরবর্তীতে মল্লারপুরের জমিদার জগন্নাথ রায় বর্তমানে দৃশ্যমান তারাপীঠ মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

শাস্ত্র মতে, বশিষ্ঠ মুনির কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী তারা তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন যে, এরপর থেকে কোনো সাধককে আর তেমন কঠোর তপস্যার প্রয়োজন হবে না। এই পীঠস্থানে যে কোনো সাধক মাত্র ‘এক লক্ষ বার’ তারা মন্ত্র জপ করলেই সিদ্ধিলাভ করতে সক্ষম হবেন। দেবীর এই বিশেষ বরদানের কারণেই তারাপীঠ সাধারণ শক্তিপীঠের ঊর্ধ্বে উঠে সাধক ও ভক্তদের কাছে এক অলৌকিক তন্ত্রসাধনার মহাসিদ্ধপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *