উত্তরপ্রদেশে স্বজনপ্রীতির দিন শেষ, ৪,৫৪৩ সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে কী বললেন যোগী?
বার্তা ডেস্কঃ
স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুফল পাচ্ছেন রাজ্যের যুবসমাজ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী
লখনউ: বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং বিগত সরকারগুলির ‘সাইফাই সিন্ডিকেট’-এর মতো অস্বচ্ছ ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। নবনির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন যে, বর্তমান ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, চাকরি পাওয়ার জন্য তাঁদের কি কখনও কোনো সুপারিশ বা উৎকোচের আশ্রয় নিতে হয়েছে? তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারগুলির আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন এক সিন্ডিকেট কাজ করত, যেখানে এক ব্যক্তি আবেদন করলে অন্যজন পরীক্ষা দিত এবং তৃতীয় জন চাকরি বাগিয়ে নিত। সেই কলুষিত ব্যবস্থার অবসান ঘটানোই বর্তমান সরকারের অন্যতম সাফল্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত সাড়ে নয় বছরে রাজ্যে সরকারি চাকরির সংখ্যা ৯.৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বিভাগেই স্বচ্ছতার সঙ্গে ২.৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও, আগামী ‘ভাইফোঁটা’র দিন রাজস্ব বিভাগে নতুন করে ১,২০০-র বেশি পদে নিয়োগপত্র দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির কারণে উত্তরপ্রদেশের যুবকদের ভিনরাজ্যে গিয়ে কর্মসংস্থানের সন্ধানে হেনস্তার শিকার হতে হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের কঠোর পদক্ষেপে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আজ দেশ ও বিশ্বের কাছে ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, গভীর রাতেও লখনউয়ের টেক পার্ক থেকে মহিলারা নিরাপদে স্কুটার বা বাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন।
পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৫৬টি জেলায় পুলিশ কর্মীদের জন্য আধুনিক বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের পুলিশ প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।