পোস্টাল ব্যালটে তৃণমূলের ভরাডুবি এবং সরকারি কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, শুধু সাধারণ বুথেই নয়, পোস্টাল ব্যালটেও বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটের একটি বিশাল অংশ শাসকদলের বিপক্ষে গেছে। সাধারণত সরকারি কর্মচারী, পুলিশ এবং ভোটের ডিউটিতে থাকা কর্মীরাই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। সেই ভোটব্যাঙ্কেই এই ধস ঘাসফুল শিবিরের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
ব্যালট যুদ্ধে পর্যুদস্ত শাসকদল
কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, পোস্টাল ব্যালটের মোট ভোটের প্রায় ৮০ শতাংশই তৃণমূলের বিপক্ষে জমা পড়েছে। রাজ্যের অধিকাংশ আসনেই এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে অসন্তোষ বা প্রশাসনিক বিভিন্ন জটিলতা এই ভোট বিমুখতার কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। তবে সামগ্রিক এই নেতিবাচক চিত্রের মধ্যেও ভবানীপুর কেন্দ্রে সামান্য স্বস্তিতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই একটি কেন্দ্রে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে মাত্র ৯টি পোস্টাল ব্যালটে এগিয়ে ছিলেন; যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৪৬৩টি ভোট এবং শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৪৫৪টি ভোট।
প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার প্রভাব ও আগাম বার্তা
পোস্টাল ব্যালটে এই বিপুল ব্যবধানে পরাজয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও সরকারি স্তরের ভোটারদের মধ্যে বর্তমান সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত ছিল। নির্বাচনী ময়দানে এই ভোটগুলো সরাসরি নির্ণায়ক ভূমিকা না নিলেও, তা জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। এই বড় ধাক্কা প্রমাণ করছে যে, নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া ছিল প্রবল। এই ফলের রেশ রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে ও আগামী দিনের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।