গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ! ‘গুন্ডা দমন’ বিল নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি বিকাশরঞ্জনের

বিধানসভায় নতুন দুটি বিল নিয়ে তীব্র বিতর্ক, ‘কালা কানুন’ আখ্যা বিরোধীদের

বিধানসভায় পেশ হতে যাওয়া ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোস্যাল অ্যাকটিভিজ বিল, ২০২৬’ নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল ও আইনজ্ঞদের আশঙ্কা, এই বিল দুটি আইনে পরিণত হলে সরকারের হাতে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করার একচ্ছত্র ক্ষমতা চলে আসবে। বিলগুলোর বিভিন্ন ধারায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ সংকুচিত করা, পুলিশের অবারিত ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদকে দমনের সুযোগ তৈরির মতো বিষয়গুলো উঠে আসায় একে ‘কালা কানুন’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বিলের বিভিন্ন ধারায় প্রশাসনিক ‘ক্লেমস কমিশন’ গঠন করে আদালতের এক্তিয়ার খর্ব করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিভিল কোর্টে আপিল করা যাবে না। এছাড়া, ‘গুন্ডা’ বা ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’-এর অস্পষ্ট সংজ্ঞার সুযোগ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী বা আন্দোলনকারীদের জামিন অযোগ্য ধারায় আটক রাখা এবং বিনা বিচারে ১২ মাস পর্যন্ত প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্তের আইনজীবীর সাহায্য পাওয়ার অধিকারে বিধিনিষেধ এবং পুলিশকে ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়ার বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন মহল। বিলটি পাস হলে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিরোধীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *