৭৯ বছরের সেই স্মৃতি কি চিরতরে মুছে যাবে!
বার্তা ডেস্কঃ
৮০তম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে দেশ যখন মাতোয়ারা, ঠিক তখন বাগনানের কানাইপুরে চরম অবহেলায় নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ৭৯ বছরের ইতিহাস। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তেমাথার মোড়ে বট, অশ্বত্থ ও নিম গাছের চারা রোপণ করেছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস নেতা ডাঃ সত্যচরণ চট্টোপাধ্যায়, বীরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও গোষ্ঠবিহারী বেরারা। দেশ স্বাধীন হওয়ার সেই স্মৃতি আজ মহীরুহে পরিণত হলেও, স্বাধীনতার জীবন্ত দলিল এই বৃক্ষত্রয়ী বর্তমানে জীর্ণ ও অবহেলার শিকার। গাছগুলির চারপাশে বাঁধানো বেদি থাকলেও তা নোংরা, নিয়মিত দেখভাল হয় না এবং সামনের রাস্তাও ভাঙাচোরা। স্থানীয় নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহাসিক স্মারক প্রায় অজানা বললেই চলে।
ঐতিহাসিক এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এখন সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও বিশিষ্ট জনেরা। সমাজসেবী মোহনলাল কাপড়ি ও সাহিত্যিক শুভেন্দু দত্ত গাছগুলির সঠিক সংরক্ষণ ও সম্মানজনক মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে স্থানটি এলাকার গর্বের পরিচিতি পায়। স্থানীয়দের এই ক্ষোভ ও দাবির মুখে আশ্বাস দিয়েছে হাওড়া বিভাগীয় বনদফতর। বন কর্মকর্তা সুজিত দাস জানিয়েছেন, প্রশাসনের সাথে কথা বলে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষত্রয়ী সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যে সকল স্বাধীনতা সংগ্রামী ও নেতৃবৃন্দ ১৯৪৭ সালে এই গাছগুলি রোপণ করেছিলেন, তাঁদের নাম সংবলিত একটি বিশেষ স্মারক ফলক তৈরি করে স্থানটি পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।