ডিপফেক ও AI কনটেন্ট রুখতে কেন্দ্রের কড়া বার্তা, মেটার ওপর বড় পদক্ষেপ!

বার্তা ডেস্কঃ

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট (CSAM) এবং অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় ছড়ানো বন্ধ করতে মেটা (Meta)-কে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের স্পষ্ট বার্তা—আইন লঙ্ঘন করে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ালে কোনোভাবেই ‘সেফ হারবার’ (Safe Harbour) সুরক্ষার সুবিধা দাবি করা যাবে না। কঠোর এই অবস্থানের পর মেটার তরফেও ইতিবাচক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সূত্রে খবর।

তবে কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে, তাদের উদ্দেশ্য সংবাদ প্রকাশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অযথা সেন্সরশিপ চালানো নয়। বরং ভারতীয় আইন মেনে প্ল্যাটফর্মগুলি যেন পরিচালিত হয় এবং সমাজে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমানো যায়, সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

অ্যালগরিদম ও ডিপফেক নিয়ে বৈঠক

সম্প্রতি কেন্দ্রের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মেটা প্রতিনিধিরা তাদের ‘রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম’ ও ব্যাকএন্ড সিস্টেম কীভাবে কাজ করে, তা ব্যাখ্যা করেছেন। তবুও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর বা ডিপফেক কনটেন্ট শনাক্ত হওয়ার পরও কীভাবে বারবার ভাইরাল হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম

শুধু ফেসবুক বা মেটা নয়, হোয়াটসঅ্যাপের আসন্ন ইউজারনেম ফিচার নিয়েও সরকার সতর্ক নজর রাখছে। তবে এটি কেবল হোয়াটসঅ্যাপেই সীমাবদ্ধ থাকছে না—সমস্ত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের জন্যই একটি সার্বিক ও সুনির্দিষ্ট নীতি তৈরির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।

এআই (AI) কনটেন্টে লেবেল দেওয়া বাধ্যতামূলক

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী AI বা সিন্থেটিক্যালি তৈরি সমস্ত কনটেন্টে স্পষ্ট ‘লেবেল’ বা ট্যাগ লাগানো বাধ্যতামূলক। এই দায়িত্ব সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা—সকলেরই ওপর বর্তায়।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো ভারতও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক এই আলোচনার পর এটা পরিষ্কার যে—ডিপফেক, লেবেলহীন AI কনটেন্ট, CSAM এবং অ্যালগরিদমিক কারসাজি রুখতে টেক সংস্থাগুলিকে এবার কড়া আইনি দায়বদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *