১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯! নতুন ওয়ার্ড সীমানা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে নজিরবিহীন হট্টগোল

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল। সোমবারে পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের নেতৃত্বে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিরোধীদের একের পর এক অভিযোগে বৈঠক চলাকালীন পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সব পক্ষের জোরালো বক্তব্য ও আপত্তির পর পুর প্রশাসক সকলকে তাঁদের প্রস্তাব ও লিখিত বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিরোধীদের মূল আপত্তি ও অভিযোগ:

  • কংগ্রেসের তোপ: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “কিসের ভিত্তিতে এই নতুন বিন্যাস করা হচ্ছে? ২০১১ সালের পুরনো জনগণনার ওপর ভিত্তি করে এখনই কেন এই তাড়াহুড়ো? যেখানে দেশজুড়ে নতুন জনগণনার কাজ চলছে, সেখানে পুরসভার নিজস্ব নীতিই স্পষ্ট নয়।”
  • সিপিএমের রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ: সিপিএম নেতা কৌস্তুভ চট্টোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই এই বিন্যাস। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে ১৬ থেকে ১৮ হাজার ভোটার থাকার কথা ছিল। অথচ বর্তমানে কোথাও ৩২ হাজার, আবার কোথাও মাত্র ৮ হাজার ভোটার রেখে ওয়ার্ড ভাগ করা হয়েছে! এই বৈষম্য কার স্বার্থে?”
  • তৃণমূল শিবিরের অন্দরেও অস্বস্তি: ক্ষোভপ্রকাশে পিছিয়ে ছিলেন না শাসকদলের কিছু নেতাও। প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খান বলেন, “এসআইআরে রাজ্যে ২৭ লক্ষ এবং কেবল কলকাতাতেই প্রায় ৭ লক্ষ ভোটারের নাম ঝুলে রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাদ দিয়ে কীভাবে চূড়ান্ত পুনর্বিন্যাস হতে পারে?”
  • পরিকাঠামো ও বুথ নিয়ে অনিশ্চয়তা: তৃণমূলের আইনজীবী নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, “১৪৪টি থেকে বাড়িয়ে নতুন ২০৯টি ওয়ার্ড করা হচ্ছে, কিন্তু এতগুলি ওয়ার্ড পরিচালনা করার মতো পরিকাঠামো পুরসভার নেই। তদুপরি, কোন বুথ কোন ওয়ার্ডের অধীনে গেল তা একেবারেই অস্পষ্ট। তাই আমরা অবিলম্বে জনশুনানির দাবি জানাচ্ছি।”

পুর প্রশাসনের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ: বৈঠক শেষে সমস্ত বিতর্ক সামলে পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানান, “সব দলের মতামত নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। দাবি ও আপত্তির (Claim & Objection) সব পথই খোলা রয়েছে। এর ওপর শুনানি হবে এবং হিয়ারিং অফিসারের নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা মডিফিকেশন করা হবে।”

ইতিমধ্যেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলি তাঁদের আপত্তি, মতামত ও সংশোধনের আবেদন জমা দিতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *