তৃণমূলের কার্যালয়ে উদ্ধার কোটি টাকা, তুঙ্গে রাজনৈতিক শোরগোল!
বার্তা ডেস্কঃ
সরিষায় তৃণমূল কার্যালয় থেকে কোটি টাকা উদ্ধার: পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি
নিজস্ব প্রতিবেদন: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদের ওই কার্যালয় থেকে পুলিশ ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি:
ঘটনার পর এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ছয় মাস আগে বিজেপির দুষ্কৃতীদের হামলায় ওই কার্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে সেখানে ভুয়ো প্রমাণ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। অভিষেক বলেন, “এটি ন্যায়বিচারকে বাধা দেওয়া এবং তদন্তকে প্রভাবিত করার একটি নির্লজ্জ চেষ্টা।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার বা তদন্ত প্রভাবিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে না।
শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ:
অন্যদিকে, এই ঘটনায় তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া এই অর্থ তৃণমূল নেতাদের কাছে “নস্যির সমান”। তাঁর অভিযোগ, এই টাকা ভুল করে ফেলে যাওয়া হয়েছিল, আসলে এর বাইরেও বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরানো হয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, দুর্নীতির টাকা বেনামে সম্পত্তি কেনা এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিজেপি সরকারের আমলে রাজস্ব আদায়ের উন্নতির কথা উল্লেখ করে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ তোলেন।
টাকা উদ্ধারের প্রেক্ষাপট:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমি দখল ও মাটি চুরির মামলায় ধৃত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই বিপুল অর্থের হদিশ মেলে। সুমিতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সরিষার ওই দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থের উৎস কী এবং এর সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে সুমিত রায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের পাল্টা অভিযোগের জেরে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।