ক্ষমতা হারালেন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় চমক!
ইজরায়েলে সরকার গঠনের ডাক পেলেন আইজেনকোট, নেতানিয়াহুকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসার পথে নতুন সমীকরণ
জেরুজালেম: ইজরায়েলের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার করলেন বিরোধী নেতা আইজেনকোট। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আইজেনকোটকে সরকার গঠনের নির্দেশিকা প্রদান করা হবে। গত সপ্তাহে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ
ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট ৪৮টি আসন এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। এছাড়া আরব দলগুলো এবার রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।
নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আইজেনকোট ইতিমধ্যে ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন, যার মধ্যে আরব জোটের ১৯ জন সদস্যও রয়েছেন। বিপরীতে, নেতানিয়াহু পেয়েছেন মাত্র ৪৬ জনের সমর্থন। এমনকি তাঁর দীর্ঘদিনের শরিক ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ও এবার তাঁকে সমর্থন করেনি।
সরকার গঠনের জটিলতা
আইজেনকোট একটি ‘জরুরি সরকার’ গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছেন, তবে এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনি চারটি শর্ত আরোপ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইজরায়েলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক ও উদার রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা। বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্তগুলোর কারণে আরব দলগুলোর ক্যাবিনেটে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আগামী কয়েকদিন মন্ত্রীপদ বণ্টন ও রাজনৈতিক দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে কাটবে। আইজেনকোট এখন সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন চূড়ান্ত করার চেষ্টা করবেন।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো সদস্যকে সেই দায়িত্ব দেবেন, যিনি ২৮ দিন সময় পাবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ব্যর্থতা দেখা দিলে নেসেট বা পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশটিতে পুনরায় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।