বিলাসবহুল কনভয় ও বিদেশ সফরে কোপ বসিয়ে জনরোষ সামলাতে মরিয়া বিজেপি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার নিজেদের ‘ভিআইপি কালচার’ বিসর্জন দিতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সাধারণ মানুষকে ত্যাগের পরামর্শ দেওয়ার পর নিজেরাই যদি বিলাসিতা বজায় রাখেন, তবে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তড়িঘড়ি এই কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হেঁটেছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এখন বড় কনভয় ত্যাগ করে গণপরিবহন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন।

ভিআইপি সংস্কৃতিতে বড়সড় কাটছাঁট

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের ডাক দেওয়ার পরপরই নিজের কনভয়ের বহর এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কনভয় ১১টি থেকে কমিয়ে ৫টি করা হয়েছে। দিল্লির রাজপথেও দেখা গেছে বিরল দৃশ্য; কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল মিশ্র ও রামদাস আঠওয়ালে নিজেদের বিলাসবহুল গাড়ি ছেড়ে মেট্রো রেলে চড়ে দপ্তরে গিয়েছেন। মূলত মধ্যপ্রদেশের এক বিজেপি নেতার বিশাল গাড়ি বহরের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল, তা সামাল দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বাতিল হচ্ছে বিদেশ সফর ও সরকারি বিলাসিতা

মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতো রাজ্যগুলোতে সরকারি স্তরে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আশিস শেলার তাঁর নির্ধারিত ফ্রান্স সফর বাতিল করেছেন এবং পর্যটন মন্ত্রী শম্ভুরাজ দেশাই তাঁর পারিবারিক ইউরোপ সফর স্থগিত করেছেন। এমনকি জাপানে ২২ জন বিধায়কের ‘স্টাডি ট্যুর’ও বাতিল করা হয়েছে। গুজরাটের রাজ্যপাল ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের ভেতরে যাতায়াতে তিনি কোনো হেলিকপ্টার ব্যবহার করবেন না; বরং ট্রেন বা বাসে যাতায়াত করবেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও তাঁর মন্ত্রী ও আমলাদের কনভয় অর্ধেক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জ্বালানি সংকট ও কৃচ্ছ্রসাধনের প্রভাব

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করে থাকে, ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো যখন জ্বালানি রেশনিং শুরু করেছে, তখন ভারত সরকারও অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ন্ত্রণে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং গণপরিবহন ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় থাকা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতেই বিজেপি নেতৃত্ব এই ‘ত্যাগের রাজনীতি’র কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে প্রশাসনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *