আস্থা ভোটে জয়ী বিজয় থালাপতি, সংকটে এআইএডিএমকে

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক যুগের সূচনা করে বিধানসভার আস্থা ভোটে বড় জয় পেলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় থালাপতি। বুধবারের এই জয়ের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রথাগত দ্রাবিড় রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিলেন তিনি। গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাঝাগম (টিভিকে) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং অন্যান্য সমমনা দলগুলোর সমর্থনে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।

এআইএডিএমকে শিবিরে বড় ফাটল

আস্থা ভোটের ফলাফলের চেয়েও বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে-র অভ্যন্তরীণ ভাঙন। দলীয় প্রধান এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামী তাঁর বিধায়কদের বিজয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিলেও ২৪ জন বিধায়ক তা অমান্য করে সরকারের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। সি ভি শণ্মুগম এবং এস পি ভেলুমণির মতো হেভিওয়েট নেতাদের নেতৃত্বাধীন এই বিদ্রোহ দলের ভঙ্গুর অবস্থাকেই জনসমক্ষে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, ডিএমকে-র ৫৯ জন বিধায়ক এই প্রক্রিয়া বয়কট করে ওয়াকআউট করায় বিজয়ের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

স্থিতিশীলতা ও আগামীর রাজনীতি

২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসন নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিজয়ের সরকার এখন ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থনে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। জয়ের পর বিজয় তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘হুইসেল’-এর প্রসঙ্গ টেনে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এআইএডিএমকে-র এই বড় ধরনের অন্তর্ঘাত তামিলনাড়ুর বিরোধী রাজনীতিতে বিশাল শূন্যতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে বিজয়ের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *