সোনা ও রুপোর পর এবার কি জ্বালানির পালা, মধ্যবিত্তের পকেটে বড় টান পড়ার আশঙ্কা
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় ভারতের অর্থনীতিতে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পর এবার সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দীর্ঘ সময় দাম অপরিবর্তিত থাকায় দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
তেল সংস্থাগুলির বিপুল লোকসান ও সরবরাহে টান
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়ার ফলে ভারতের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের খুচরো বাজারের মূল্যের মধ্যে ব্যবধান ক্রমাগত চওড়া হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে, ফলে এই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি স্তরেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি খরচ কমাতে স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস এবং অফিসগুলিতে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দাম বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ধারণা করা হচ্ছে, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অন্তত ৫০ টাকা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী অভয় দিয়ে জানিয়েছেন যে দেশে জ্বালানি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।