কারা পাবেন বাড়তি টাকা? রাজ্যের নতুন ভাতা ঘোষণায় তুমুল জল্পনা
রাজ্যের সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষায় বড়সড় পরিবর্তনের ডাক দিয়ে একাধিক জনকল্যাণমূলক ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ মাসিক ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার ঘোষণা দিয়েছে। মূলত সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিকূল অবস্থায় থাকা মানুষের হাতে বাড়তি নগদ পৌঁছে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য। আগামী জুন মাস থেকেই এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন
ভোটের প্রচার চলাকালীন এবং নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, পূর্বতন সরকারের দেওয়া ভাতার পরিমাণ বর্তমান বাজারদরে একটি সংসার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। সেই সময় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে চাইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পাশাপাশি এই অন্যান্য ভাতাগুলোর পরিমাণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে সরকার প্রান্তিক স্তরের নাগরিকদের মধ্যে নিজেদের ভিত্তি আরও মজবুত করতে সচেষ্ট।
আর্থ-সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিধবা মহিলারা সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় যেখানে নগদ অর্থের জোগান সীমিত, সেখানে এই বাড়তি ১,০০০ টাকা জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন উপভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীদের গড়ে তোলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও অন্যান্য জনমোহিনী প্রকল্পের বিপরীতে নিজেদের জনহিতকর ভাবমূর্তি তুলে ধরতেই প্রশাসন এই বড় মাপের বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে।