ভেন্টিলেশনে মোহনবাগান রত্ন টুটু বসু, প্রিয় ‘অভিভাবক’-এর অসুস্থতায় ভারাক্রান্ত ময়দান!
ভারতীয় ফুটবল জগতের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব এবং মোহনবাগান ক্লাবের প্রাণপুরুষ স্বপনসাধন বসু ওরফে টুটু বসু গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোমবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে তড়িঘড়ি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রবীণ এই ক্রীড়া প্রশাসককে বর্তমানে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়েছে যারা চব্বিশ ঘণ্টা তাঁর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
অকস্মাৎ শারীরিক অবনতি
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে নিয়মিত আহারের পর বিশ্রামে গিয়েছিলেন টুটু বসু। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও তাঁর ঘুম না ভাঙায় পরিজনদের সন্দেহ হয়। ডাকাডাকিতে সাড়া না মেলায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি একটি ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’-এর শিকার হয়েছেন। এর পরেই তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর এই আকস্মিক অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্রীড়ামহলে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
আধুনিক মোহনবাগানের রূপকার
মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাসে টুটু বসুর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯১ সালে কিংবদন্তি ধীরেন দে-র উত্তরসূরি হিসেবে সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ক্লাবকে আধুনিক পেশাদারিত্বের পথে চালিত করেছিলেন। ক্লাবের ব্যালট পেপারে স্বচ্ছ ভোটদান পদ্ধতি চালু করা থেকে শুরু করে বড় বিদেশি ফুটবলার সই করানো—সবক্ষেত্রেই তাঁর দূরদর্শিতা স্পষ্ট ছিল। দীর্ঘ সময় সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করা এবং পরবর্তীতে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে হাত মিলিয়ে মোহনবাগানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যেও তাঁর প্রধান ভূমিকা ছিল। বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে তিনিই ছিলেন প্রকৃত ‘গার্ডিয়ান’। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছেন অগণিত ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।