চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধিতেও কাটছে না আক্ষেপ, হারানো সাত বছর ফিরে পাওয়ার দাবি যোগ্যদের
রাজ্যের ক্ষমতায় এসেই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। সরকারের এই পদক্ষেপে আপাতদৃষ্টিতে খুশির হাওয়া বইলেও, দীর্ঘ বঞ্চনার শিকার হওয়া হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর মনে এখনও ক্ষোভ ও আশঙ্কার মেঘ কাটছে না। বিশেষ করে ৪০-৪৫ বছর বয়সি প্রার্থীদের বড় অংশই মনে করছেন, জীবনের অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর এই সুযোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বঞ্চনার ক্ষত ও বর্তমান বাস্তবতা
চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় তাঁরা মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের পর চাকরিহারা হওয়া ৩৩৯৪ জন যোগ্য অশিক্ষক কর্মীর প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা নতুন করে আর পরীক্ষা দিতে চান না। তাঁদের দাবি, আদালত তাঁদের ‘যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরেও বিগত সরকার তাঁদের চাকরিতে বহাল করেনি। বর্তমানে মুদির দোকানে কাজ করা বা টিউশন পড়িয়ে দিন গুজরান করা এই প্রার্থীদের দাবি, নতুন সরকার যেন তাঁদের পুরনো চাকরিতেই পুনর্বহাল করে।
প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ
বয়সসীমা বৃদ্ধির ফলে এখন সাধারণ প্রার্থীরা ৪৫ এবং সংরক্ষিত প্রার্থীরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন। তবে গৃহবধূ ও মধ্যবয়সি পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চর্চার অভাব এবং পারিবারিক দায়িত্ব। সংসার সামলে দিনে ৯-১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। শর্বরী মণ্ডলের মতো বহু চাকরিপ্রার্থী জানিয়েছেন, বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় বয়স পেরিয়ে গেলেও এখন নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়া তাঁদের জন্য পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ।
সম্ভাব্য প্রভাব ও অনিশ্চয়তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সসীমা বাড়ানো একটি ইতিবাচক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলেও, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণই আসল সমাধান। যদি দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা হয়, তবে কেবল বয়স বাড়িয়ে বিশেষ লাভ হবে না। চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের যে ‘অ্যাকাডেমিক গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে তাঁরা কতটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এই বর্ধিত বয়সের প্রার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত পথ প্রশস্ত করা।