সুজিতের গ্রেপ্তারি নিয়ে সরব দিলীপ, দুর্নীতিবাজদের কড়া হুঁশিয়ারি পঞ্চায়েত মন্ত্রীর

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেপ্তারি নিয়ে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন নবনিযুক্ত পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, মানুষের টাকা যারা চুরি করেছে, তাদের শাস্তি পেতেই হবে। বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো হেভিওয়েট নেতার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে ধরা পড়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

আইন ও প্রশাসনের কড়া বার্তা

দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, গত ১৫ বছর ধরে চলা দুর্নীতির তদন্ত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তাঁর মতে, সরকারের কাছে কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রশাসন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং আইনত সমস্ত দোষীদের উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করা হবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকার শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে।

শারীরিক অসুস্থতা ও আইনি প্রক্রিয়া

সোমবার রাতে ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর ইডি সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করে। সিজিও কমপ্লেক্সে থাকাকালীন তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কথা জানানোর পর তাঁর পুত্র অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে সেখানে পৌঁছান। মঙ্গলবার সাতসকালেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যাবতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঘটনার প্রভাব

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সুজিত বসুর মতো প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তারি প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর এই কড়া হুঁশিয়ারি প্রমাণ করছে যে, আসন্ন দিনগুলোতে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত আরও গতি পাবে। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না—সরকারের এই অনমনীয় মনোভাব তৃণমূল শিবিরের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *