চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে সিবিআই, ঘাতকদের খোঁজে ৭ সদস্যের হাই-প্রোফাইল সিট

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়তাকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড়সড় মোড় এল। সোমবার গভীর রাতে এই খুনের তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ইতিমধ্যেই সাত সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি পদমর্যাদার অফিসার পঙ্কজকুমার সিংহ। মঙ্গলবারই রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে মামলার সমস্ত নথিপত্র গ্রহণ করবে এই কেন্দ্রীয় দল।

পেশাদার শুটার ও আন্তঃরাজ্য যোগ

গত ৬ মে ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক দু’দিন পর মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। পেটে, বুকে ও মাথায় চারটি গুলি লাগায় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। রাজ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডে ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্প শুটারদের ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘাতকরা পালানোর সময় বালি টোলপ্লাজায় ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা দেওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে উত্তরপ্রদেশ ও বক্সার থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই শার্প শুটারদের নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা, তা এখনও অধরা।

সিবিআই-এর বিশেষ টিম ও কর্মপরিকল্পনা

তদন্তের জাল ছড়িয়ে দিতে সিবিআই-এর এই বিশেষ দলে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ অফিসারদের। পঙ্কজকুমার সিংহের নেতৃত্বে এই টিমে রয়েছেন অনিলকুমার যাদব, বিকাশ পাঠক ও বিবেক শ্রীবাস্তবের মতো ঝানু তদন্তকারীরা। কলকাতার জয়েন্ট ডিরেক্টরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই দল কাজ করবে। সিবিআই মূলত খুনের নেপথ্যে থাকা সুপারিদাতা এবং ঘটনার কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে।

প্রভাব ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলের এক ব্যক্তির এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সিবিআই দায়িত্ব নেওয়ায় তদন্তের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই আন্তঃরাজ্য অপরাধী চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আজ থেকেই সিবিআই আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের জট খোলার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *