এসএসসি দুর্নীতিতে কড়া পদক্ষেপ, অযোগ্যদের বেতন ফেরাতে জেলা শাসকদের আল্টিমেটাম দিল নতুন সরকার

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর এবার এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত সক্রিয়তা দেখাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকার। আদালতের দীর্ঘদিনের নির্দেশ মেনে তথাকথিত ‘অযোগ্য’ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের কাছ থেকে বেতন ফেরত আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। এই মর্মে বিকাশ ভবন থেকে প্রতিটি জেলার জেলা শাসকদের (ডিএম) কাছে দ্রুত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক তত্পরতা

বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিবিআই তদন্তের ভিত্তিতে ১,৮০৬ জন শিক্ষক এবং ৩,৫১২ জন অশিক্ষক কর্মীকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। স্কুল সার্ভিস কমিশনও তাদের পোর্টালে এই তালিকা আগেই প্রকাশ করেছে। অভিযোগ ছিল, পূর্ববর্তী সরকার এই বেতন ফেরানোর বিষয়ে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান সরকার এবার সেই আইনি প্রক্রিয়াকেই ত্বরান্বিত করতে চাইছে।

জেলাস্তরে কড়া নজরদারি

বিকাশ ভবন থেকে পাঠানো নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা শাসকরা ইতিমধ্যে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। অফিসিয়াল গ্রুপ এবং সরকারি পোর্টালে দ্রুততার সাথে তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। ঠিক কতজনের কাছ থেকে কত টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার বিশদ খতিয়ান সরকারকে জমা দিতে হবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

প্রশাসনিক মহলের মতে, আদালতের কড়া অবস্থান এবং আইনি জটিলতা এড়াতেই এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বেতন ফেরত আদায়ের এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের এই অনড় অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন অযোগ্যদের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক স্তরেও নতুন করে তর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *