বিএসএন ধারায় প্রথম সাজাঘোষণা করে নজির গড়ল মুর্শিদাবাদ, ১০ বছরের কারাদণ্ড পেল ১২ দুষ্কৃতী
পশ্চিমবঙ্গে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস) কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো ফৌজদারি মামলায় দোষীদের সাজা ঘোষণা করল আদালত। বুধবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক শুভদীপ বিশ্বাস অশান্তি ও পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। নতুন আইনের কঠোর প্রয়োগে এই ঐতিহাসিক রায় রাজ্যে বিচার প্রক্রিয়ার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করল।
সাজা প্রাপ্তদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। নতুন আইনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক দোষীকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৬০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া আদালত রাজ্য সরকারকেও নির্দেশ দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান করার জন্য। সময়মতো চার্জশিট পেশ এবং দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় অভিযুক্তরা বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই ছিলেন।
হামলা ও নারকীয় তান্ডবের প্রেক্ষাপট
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের এপ্রিল মাসে। একটি বিশেষ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও সুতি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ ওঠে, ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদ-পালপাড়া গ্রামে বলরাম পাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। তারা বলরাম বাবু ও তাঁর ছেলে রঞ্জিত পালকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। হামলায় বলরাম পালের বাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি পিতা ও পুত্র দুজনেই গুরুতর জখম হন।
আইনি প্রয়োগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষ সরকারি আইনজীবী অঙ্কৃত মুখার্জি জানান, রাজ্যে বিএনএস চালু হওয়ার পর এটিই প্রথম মামলা যেখানে দাঙ্গা এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে আদালত সাজা শোনাল। দোষীদের বিরুদ্ধে ১৯১(২) ও ১০৯ সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজন ওই এলাকায় আরও একটি খুনের ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত ছিল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে নতুন আইনের অধীনে এই সাজা ঘোষণা ভবিষ্যতে দাঙ্গাকারী ও দুষ্কৃতীদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। একইসঙ্গে এই রায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।