ব্রিটেনে গ্রুমিং গ্যাংয়ের নারকীয় অত্যাচার, ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে গা শিউরে ওঠা তথ্য!

ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ওয়েস্টমিনস্টার হলে গ্রুমিং গ্যাংয়ের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একটি অপরাধী চক্রের মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ কিশোরী ও তরুণীদের যৌন শোষণ, পাচার ও নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে এই সাক্ষ্যে। ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনাগুলো শুনে হতবাক হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, অপরাধীরা সুপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতন চালাত, যা আধুনিক সভ্যতার জন্য কলঙ্কজনক।

সাক্ষ্যদানকারী ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, অপরাধীদের এই চক্রটি ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের পৈশাচিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। এর মধ্যে পশুর সাথে যৌন নির্যাতন ছাড়াও এক কিশোরীর ভাষ্যমতে, মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে তাকে অন্তত ৭০০ জন ব্যক্তি বছরের পর বছর ধর্ষণ করেছে। ভুক্তভোগীদের অনেকের ক্ষেত্রেই অঙ্গহানির মতো নজিরবিহীন নৃশংসতার তথ্য পাওয়া গেছে এবং সরকারি পরিচর্যা কেন্দ্র থেকেও অনেক কিশোরী পাচারের শিকার হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংসদ সদস্যদের মতে, এই অপরাধের পেছনে জাতিগত বিদ্বেষ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল বড় অন্তরায়। অপরাধীরা শ্বেতাঙ্গ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মেয়েদের নিচু চোখে দেখত এবং অপরাধের বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে গুরুত্ব না পাওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে অপরাধীদের জাতীয়তা ও ধর্মীয় পরিচয় নথিবদ্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *