আইটি কর্মীদের ছাঁটাই ও গণ-নিয়োগ বন্ধের আসল কারণ কী?
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো শীর্ষস্থানীয় আইটি কোম্পানিগুলোতে লে-অফ ও বেতন হ্রাসের পাশাপাশি নতুন আশার আলো হিসেবে পরিচিত গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টারগুলোও (GCC) এখন গণনিয়োগের নীতি থেকে সরে এসেছে। ২০২৬ সালে এসে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বদলে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইনফো এজ-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে জিসিসিতে নিয়োগ আগের মাসের তুলনায় ৪ শতাংশ কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যমান কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। ইনফো এজের এমডি এবং সিইও হিতেশ ওবেরয় জানিয়েছেন, বড় কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীবাহিনী কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করায় বড় আকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন অতীত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ৫৫ থেকে ৭০ শতাংশই ৪ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সাধারণ চাকরির বাজার সংকুচিত হলেও এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, প্ল্যাটফর্ম ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট—এই পাঁচটি বিশেষ শাখায় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা এখন তুঙ্গে। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে ফ্রেশারদের জন্য বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অভিজ্ঞতার মানদণ্ড আইটি ক্যারিয়ারের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে।