তৃণমূলের ভাঙনে নয়া মোড়, দাক্ষিণাত্যের ‘চাণক্য’ কি এবার বঙ্গ রাজনীতিতে!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে চলমান বিদ্রোহ ও দল ভাঙার নেপথ্যে থাকা মূল কারিগর হিসেবে সামনে এসেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সিএম রমেশের নাম। এতদিন বিজেপির ঝাড়খণ্ডের সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের নাম শোনা গেলেও, সিএম রমেশ নিজেই দাবি করেছেন যে বিদ্রোহী সাংসদদের রাজি করানোর মূল সমন্বয়ক ছিলেন তিনিই। সংসদীয় ক্যান্টিনে নিয়মিত যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সখ্যতাকে পুঁজি করে তিনি এই ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এই বিদ্রোহের জেরে তৃণমূলের ১৯ জন লোকসভা এবং ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ দল থেকে নিজেদের আলাদা করার প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর করেছেন।
সিএম রমেশ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিদ্রোহী সাংসদদের কোনো টাকা বা পদের টোপ দেওয়া হয়নি, বরং তাঁদের সংসদীয় এলাকায় সর্বোচ্চ উন্নয়নমূলক কাজের লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তবে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই দাবিকে ‘আত্মম্ভরিতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ২০১৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপির সাংসদদের বিজেপিতে শামিল করানোর রেকর্ড থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রমেশের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। গত ৮ জুন কলকাতায় বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে সিএম রমেশের একটি গোপন বৈঠকের খবরও সামনে এসেছে। তৃণমূলের এই অংশটি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে লোকসভা ও রাজ্যসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।