দল ভেঙে চুরমার, কঠিন যুদ্ধের মুখে মমতা!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে প্রকট হয়েছে গভীর সংকট। একদিকে ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন এবং বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে ঋতব্রত ব্যানার্জী ‘বিরোধী দলনেতা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। অন্যদিকে, দিল্লিতে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়ে পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠন করেছেন, যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে দলের ‘কম্পিউটার ও রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি’-র সভাপতি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দিল্লি ও কলকাতা—উভয় ক্ষেত্রেই আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখী। কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের নির্বাচনী প্রতীক ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, যার ফলে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে দিল্লিতে লোকসভা স্পিকারের কাছে ওই ২০ সাংসদের পদ খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দীর্ঘায়িত আইনি লড়াইয়ের সুযোগ নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি অংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়া বা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পথে হাঁটতে পারে, যা তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।