শিক্ষাব্যবস্থা কি কেবল রিজেকশনের কারখানা? কোটা আন্দোলনে জেন-জিদের মন জিতলেন রাহুল!
দক্ষিণী তারকা থলপতি বিজয়ের রাজনৈতিক কৌশল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে অভিনব পথে হাঁটছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রাজস্থানের কোটায় আয়োজিত ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ শীর্ষক এক মেগা ছাত্র সমাবেশে তিনি সুপারস্টারের মতো মঞ্চে উপস্থিত হন। নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আয়োজিত এই ‘ওপেন থিয়েটার’ কর্মসূচিতে বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিন, আধুনিক লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং পড়ুয়াদের মোবাইল ফ্ল্যাশলাইটের ব্যবহারে এক নতুন ঘরানার রাজনৈতিক প্রচার লক্ষ্য করা গেছে।
মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধী বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘তোলাবাজির মঞ্চ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান ব্যবস্থাটি প্রতিভার মূল্যায়ন করার পরিবর্তে ‘সিস্টেম অফ রিজেকশন’ বা বাদ দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান এই বৈষম্য পড়ুয়াদের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে বলে তিনি দাবি করেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই কংগ্রেস দেশব্যাপী বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কোটায় এই সমাবেশের সাফল্যের পর আগামী ১০ জুলাই এলাহাবাদ, ১১ জুলাই পাটনা এবং ১৪ জুলাই দিল্লিতে একই আদলে মেগা ইভেন্টের পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস। পরীক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ এবং দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের এক ছাতার তলায় এনে দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। রাহুলের এই নতুন জনসংযোগ পদ্ধতি এবং আগ্রাসী রাজনৈতিক কৌশল আগামী দিনে যুব ভোটব্যাঙ্ককে কতটা প্রভাবিত করে, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।