ট্রাম্পের চাপে কোন পথে ইরান? শান্তিপ্রক্রিয়া ভণ্ডুলের নেপথ্যে মোজতবা খামেনেই!

সাড়ে তিন মাসের তীব্র সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রস্তুতকৃত এই চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রক স্বাক্ষর করেছে। জেনেভায় আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রবল চাপের মুখেই তিনি এই চুক্তিতে সম্মতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার পেছনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান এবং দেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটির অনুমোদন রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মোট ১৪টি শর্তের এই চুক্তির আওতায় আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বাজেয়াপ্ত ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে সেনা সরিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিনিময়ে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছে এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ইতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।