লাখ টাকার কোচিং আর নামী স্কুল, ইউপিএসসিতে ইডব্লিউএস সংরক্ষণ কি আদৌ ন্যায্য!
ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (EWS) সংরক্ষণ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় বার্ষিক আট লক্ষ টাকার কম আয়ের সাধারণ শ্রেণির পরিবারগুলোর সুবিধার কথা থাকলেও, ২০২৫ সালের পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০৪ জন প্রার্থীর অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে হওয়া তদন্তে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, সুবিধাভোগীদের মধ্যে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য, যা এই সংরক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত ১০৪ জনের মধ্যে ৮৪ জন নামী কোচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬৭ জন দিল্লি-সহ বিভিন্ন মেট্রো সিটির ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানে পড়েছেন। এছাড়া ৪৬ জন প্রার্থী ব্যয়বহুল বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, ২৮ জন ব্যবসায়ী পরিবারের এবং ১০ জন বহুজাতিক কোম্পানির চাকরি ছেড়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তবে এই বৈষম্যের মধ্যেও ২৮ জন কৃষক বা শ্রমিকের সন্তানসহ বেশ কিছু সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী এই কোটায় সফল হয়েছেন, যা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র আয়কর রিটার্ন বা স্বঘোষিত নথির ওপর ভিত্তি করে ইডব্লিউএস শংসাপত্র প্রদানের কারণেই এই পদ্ধতিগত ত্রুটি তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন আমলা ও ডিওপিটি-র প্রাক্তন সচিব সত্যনন্দ মিশ্রসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই শংসাপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও নিবিড় নজরদারি চালুর দাবি তুলেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, বর্তমান নজরদারি ব্যবস্থা পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতে প্রকৃত দরিদ্র মেধাবীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।