আইনি মুক্তি পেলেন সাংবাদিকরা, তবুও কেন মিলছে না কাজ?
নিউজক্লিক বিতর্ক: আদালতের রায়ে মুক্তি মিললেও কর্মজীবনের অনিশ্চয়তায় প্রাক্তন কর্মীরা
আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে নিউজক্লিক পোর্টাল এবং এর কর্ণধার প্রবীর পুরকায়স্থ আদালতের ক্লিনচিট পেলেও, বাস্তব জীবনে ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পোর্টালটির প্রাক্তন কর্মীরা। দিল্লি হাইকোর্ট সংস্থার বিরুদ্ধে চলা আর্থিক অনিয়মের মামলাকে ‘আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার’ হিসেবে অভিহিত করলেও, সংবাদমাধ্যমের অন্দরে তৈরি হওয়া এক অদৃশ্য ‘ব্ল্যাকলিস্ট’-এর কারণে তাঁদের কর্মজীবন থমকে গেছে। মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও কর্পোরেট সংস্থাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিউজক্লিকের প্রাক্তন কর্মীদের সিভি জমা দিলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। নিয়োগকর্তাদের ভীতি, এই কর্মীদের কাজ দিলে সরকারি বা আয়কর দপ্তরের নজরদারি তাঁদের ওপর পড়তে পারে, আর সেই ভয়েই পেশাদার দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কাজ পাচ্ছেন না এই সাংবাদিকরা।
গত দুই বছর ধরে চলা এই পরিস্থিতির খেসারত দিতে হচ্ছে সংবাদকর্মীদের। ২০২৩ সালের শেষে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার পর ২০২৪-এর শুরুতে বেশিরভাগ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর পাশাপাশি, একই সময়ে দিল্লি পুলিশ কর্তৃক ৮০ জন কর্মীর ল্যাপটপ, মোবাইল ও হার্ড ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করায় তাঁরা তাঁদের কাজের পোর্টফোলিও ও নথিপত্র হারিয়েছেন। ফলে দীর্ঘ সময় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার সুযোগও বন্ধ ছিল। বর্তমানে রুটিরুজির টানে কেউ কেউ নামমাত্র পারিশ্রমিকে ফ্রিল্যান্স কাজ করছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে সাংবাদিকতা পেশা থেকেই সরে এসেছেন। আইনি প্রক্রিয়ার এই যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বহু সাংবাদিক বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন।