আপনার এলাকায় নতুন গুন্ডাদমন আইন, কোন অপরাধে কী শাস্তি জানেন কি!

রাজ্যে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ’ আইন, যা সাধারণ্যে ‘গুন্ডাদমন আইন’ হিসেবে পরিচিত। সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, পুলিশ কমিশনার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা সরকার-নির্ধারিত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা কোনো সমাজবিরোধীকে আটকের নির্দেশ দিতে পারবেন। জননিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কোনো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটকে রাখা সম্ভব হবে, যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারের নির্ধারিত কমিটি বা কমিশনের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে পারবেন।

এই আইনের আওতায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, জমি দখল, বেআইনি বালি বা খনি উত্তোলন, ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করার মতো অপরাধগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী সরকার প্রকৃত ক্ষতির দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা বা ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ আদায় করতে পারবে। আইনটিতে ‘গুন্ডা’র সংজ্ঞা হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিজে অথবা কোনো গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে অভ্যাসগতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বা অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক আইন সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে যুক্ত থাকলে তাকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এদিকে, আইনটি কার্যকর হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলগুলো এটিকে ‘কালা কানুন’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ তুলেছে যে, এই আইনের আড়ালে বিরোধী কণ্ঠস্বর ও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে দমন করা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *