স্তনে হাত দেওয়া কি ধর্ষণের চেষ্টা নয়? হাইকোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট!
মহিলার সালোয়ার খোলা এবং স্তনে হাত দেওয়ার ঘটনাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে গণ্য না করার পাটনা হাইকোর্টের বিতর্কিত রায়ের তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, যৌন হেনস্থার মামলাগুলোতে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের অবশ্যই আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে। পাটনা হাইকোর্ট পূর্বের সিদ্ধান্তে ঘটনাটিকে ধর্ষণের চেষ্টা না বলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারা অনুযায়ী ‘শ্লীলতাহানি’ হিসেবে গণ্য করেছিল। আইনজীবী শোভা গুপ্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এই ধরনের রায়ের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বিচারকদের রায় দেওয়ার আগে যথাযথ গবেষণা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু কড়া নির্দেশ জারি করেছে। যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচারবিভাগীয় সংবেদনশীলতার জন্য ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির তৈরি হ্যান্ডবুক অনুসরণ করা এখন থেকে দেশের সমস্ত আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্ট ও সমস্ত হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, এফআইআর দায়ের ও চার্জশিট জমা দেওয়ার সময় পুলিশকেও এই হ্যান্ডবুকের নিয়মাবলি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সমস্ত রাজ্য সরকারকে স্ব স্ব এলাকার থানাগুলোতে নির্দেশিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।