যোগী আদিত্যনাথের ধাঁচে বাংলা! তারকেশ্বরে সাধুর মেলা, ১০০০ কোটির তীর্থ সার্কিট ঘোষণা।

তারকেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী ৪০ দিন ব্যাপী শ্রাবণী মেলাকে এবার ‘জাতীয় উৎসব’ হিসেবে ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এই মেলাকে কেন্দ্র করে তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে পুণ্যার্থীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি এবং নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৩০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র। এই কেন্দ্রগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাশাপাশি ক্লান্ত ভক্তদের জন্য ‘ফুট ম্যাসাজ’-এর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া ৩০ কিলোমিটার রাস্তা চন্দননগরের আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে এবং দুধপুকুরে লেজার শোয়ের মাধ্যমে ‘শিবপুরাণ’ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মেলা উপলক্ষে আগামী দুই বছরের মধ্যে ১০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্যজুড়ে একটি ‘তীর্থ সার্কিট’ গড়ে তোলার ঘোষণা করেছেন, যার মাধ্যমে কোচবিহার থেকে মেদিনীপুর পর্যন্ত সমস্ত ঐতিহ্যবাহী হিন্দু তীর্থস্থানগুলোকে এক সুতোয় বাঁধা হবে। একইসঙ্গে এবারের মেলায় সারা বাংলা থেকে প্রায় দেড় হাজার সাধু-সন্তের সমাগম হচ্ছে। তারকেশ্বর রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত হচ্ছে বিশাল ‘রুদ্র যজ্ঞ’, যেখানে প্রতিদিন আহুতির জন্য বিপুল পরিমাণ ঘি ও কাঠ ব্যবহৃত হবে। স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পান জানান, মেলাটিকে জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দিতে সরকার ১৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। সম্প্রতি তারকেশ্বরের এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সনাতন ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *